যে তিনটি ডকুমেন্ট না থাকলে সম্পত্তি ক্রয় বা বায়নাপত্র লেনদেন করবেন না

কর্তৃক সরকারি আদেশ
0 মন্তব্য 356 views

ডকুমেন্টগুলো হলোঃ
১) প্রথমত, ওয়ারিশ সনদ পত্র।
২) দ্বিতীয়ত,পারিবারিক ভাগবন্টন রেজিষ্ট্রেশন দলিল।
৩) তৃতীয়ত, নামজারি খতিয়ান। তারপর অন্যান্য কিছু বিষয় দেখতে হবে।
যেমন বিক্রেতা যে সুত্রে মালিক হলো, তার পূর্বের মালিক কোন সুত্রে মালিক তার দলিল খতিয়ান কপি যাচাই বাছাই করে নিবেন।
এই তিনটি ডকুমেন্ট যার কাছে না থাকবে তার দখলে থাকুক বা পারিবারিক মৌখিক বন্টন হউক আপনি ক্রয় করবেন না। অনেকেই মৃত পিতা মাতার নামের সম্পত্তি অন্যান্য ভাইবোন ওয়ারিশদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেয়। কেউ কেউ যতটুকু অংশ পাবে তার বেশি বিক্রি করে ফেলে। কেউ কেউ আছেন ভালো পজিশনের জমি বিক্রি করে দেন। কেউ কেউ আছেন ওয়ারিশদের অংশও বিক্রি করে ফেলেন। কেউ কেউ আছেন পারিবারিক মৌখিকভাবে ভাগের অংশ বিক্রি করেন।
মৌখিক ভাগ কোনো দলিল নয়। মৌলিক বন্টনের কোনো মূল্য নেই। মৌখিক কথার দাম নেই। এক লোক দীর্ঘ বছর ধরে পারিবারিক মৌখিক ভাগ করা জমি ভোগদখল করে আসছে। জমিটার মূল্য অন্যান্য জমির চেয়ে অনেক বেশি। বেশি দাম হওয়াতে তারই এক ভাই জমিটির অংশ দাবি করলো। সবাই যতই বলে মৌখিক ভাগের কথা, ভাই তা মানতে রাজি নয়। ভাই বলতেছে মৌখিক ভাগ মানি না, পুনরায় ভাগ বন্টন করতে হবে।
তারা মৌখিক ভাগ না করে পারিবারিক বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করে নিলে ভাই দাবী করলে তা কখনোই আইন সম্মত হতো না। তাই বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়ারিশ সনদ, বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল, যার আছে তার সম্পত্তিতে কখনোই কোনো ওয়ারিশ ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করতে পারবেনা।
ওয়ারিশ সনদপত্রটি প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশ সম্পত্তির মালিক। বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশের সম্মত্তিতে বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করা হয়।
আবার দেখতে হবে ওয়ারিশ সনদ সঠিক কিনা, প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ্য আছে কিনা। বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিলে প্রত্যেক ওয়ারিশের স্বাক্ষর নাম ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ্য কিনা।
অনেকেই বোনের অংশ না দিয়ে, বিক্রি করে দেন। পরে, যিনি ক্রয় করেন সেই লোক বিপদে পড়েন। কারণ ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত ছিলো বিক্রেতা কোন সুত্রে সম্পত্তির মালিক। তাই, আগেই সেই সব ডকুমেন্ট দেখা উচিত। পৈতৃক সম্পত্তি হলে বা ওয়ারিশ সম্পত্তি হলে ক্রয়ের আগে ওয়ারিশ সনদ, রেজিষ্ট্রেশন করা বন্টননামা দলিল, নামজারি খতিয়ান এগুলো দেখতেই হবে। এগুলো না দেখে ক্রয় করলে অন্যান্য ওয়ারিশরা অভিযোগ, সালিস, মামলা করলে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

রিলেটেড আরও পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!